রাঁধুনির হাতে জাদুর কাঠি

Last Updated: July 27, 2024By Tags:

‘রান্নার জাদু যেন আমাদের জন্য অপকারী না হয়ে উপকারী হয়, সেই গুরুদায়িত্ব পালনে জাদুর কাঠি নাড়াতে হবে একজন রাঁধুনিকেই।’

একজন রাঁধুনি পরিবারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। তিনি হতে পারেন আমাদের মা-বাবা, ভাইবোন যে কেউ। আমাদের দেশের মেয়েরাই বেশির ভাগ এই মহাদায়িত্ব পালন করে থাকেন। ছেলেরাও পিছিয়ে নেই এই কাজে, এখন এই বিষয় নিয়ে পড়াশোনাও করেন অনেকে। তবে রান্না যে-ই করুন, মজাদার রান্নায় আমরা প্রশংসা করে বলি, ‘রাঁধুনির হাতে জাদু আছে।’

মজাদার রান্না বলতেই আমরা অনেকে বুঝে থাকি অতিরিক্ত তেল-মসলা অথবা ভাজাপোড়া খাদ্য। প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের ৩০ গ্রাম ও প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের ২০ গ্রামের বেশি স্যাচুরেটেড ফ্যাট খাওয়া ঠিক নয়। শিশুদের ক্ষেত্রে এই হার আরও কম। তাই পরিবারের সব বয়সী মানুষ যদি একই রান্না খায়, তা-ও আবার অতিরিক্ত তেল-মসলাসহ, তাহলে এই খাবারগুলোই আমাদের জীবনে একপর্যায়ে কাল হয়ে দাঁড়ায়।

এই ধরনের খাবারের ফলে শরীরে বাসা বাঁধে নানা রকমের রোগ। উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্‌রোগ, ডায়াবেটিস, স্থূলতাসহ নানা সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার কারণ এই অতিরিক্ত তেল-চর্বিজাতীয় খাবারই। তাই রান্নায় অতিরিক্ত তেল দেওয়া থেকে সচেতন থাকা একজন রাঁধুনির গুরুদায়িত্ব। আর এই গুরুদায়িত্ব পালনে পরিবারের অন্যান্য সদস্যের অভ্যাস তৈরি করতে হবে কম তেল-চর্বিজাতীয় খাদ্য গ্রহণে। সেই সঙ্গে যিনি বাজার করেন অথবা বাজারের ফর্দ করেন, তাঁরও সচেতন থাকা দরকার প্রতিদিনের বাজারে পুষ্টিকর শাকসবজির তালিকা রাখতে।

তবে এখানেই রাঁধুনির জাদুর কাঠির গল্প শেষ নয়। আরেকটা অধ্যায় রয়েছে, তা হলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা। রান্নায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অধ্যায়টা খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়। এই অধ্যায়ের সচেতনতা পুরোটাই নির্ভর করে একজন রাঁধুনির ওপর। রান্নার সময় মাছ মাংস বা শাকসবজিগুলো ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়া। অনেককেই দেখা যায় উপকরণগুলো ধুয়ে নিলেও ছুরি বা বটি ভালোভাবে ধৌত করেন না।

কিন্তু ছুরি বা বটি পরিষ্কার করে না নিলে এতে থাকা জীবাণু চলে যাবে এই ছুরি বা বটির মাধ্যমে কাটা উপকরণগুলোর মধ্যেই।

আবার অনেকে মনে করেন, কাটার পর শাকসবজি ধুয়ে নেব। কিন্তু এতে শাক বা সবজির ভেতরে থাকা পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়ে যায়। রান্নার আগে ও পরে রাঁধুনির হাত ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে। তা ছাড়া রান্নাঘর ও রান্নাঘরের প্রতিটা জিনিস পরিষ্কার রাখতে হবে। কারণ, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের রান্নায় যেকোনো সময় জীবাণু প্রবেশ করতে পারে। অস্বাস্থ্যকর রান্না খেয়ে ডায়রিয়া, বমিসহ পাকস্থলীর নানা রোগ হতে পারে। এমনকি ধীরে ধীরে পাইলস, আলসার, ক্যানসারের মতো মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুঝুঁকিও হতে পারে।

তাই পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে একজন রাঁধুনিকে হতে হবে সচেতন। রান্নার জাদুতে পরিবারের সদস্যদের অকল্যাণ নয়; বরং কল্যাণের মাপকাঠি নির্ধারণ করেই নাড়াতে হবে রান্নার জাদুকাঠি। এতে সুস্থ দেহ সুন্দর মন পরিবারের শান্তি রক্ষায়ও ভূমিকা রাখবে।

(সংগৃহীত)

editor's pick

latest video

news via inbox

Nulla turp dis cursus. Integer liberos  euismod pretium faucibua

Leave A Comment